সেখ রিয়াজুদ্দিন, রাজনগর: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে সিপিআইএমের ঘোষিত মিছিল ও জনসভা শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে বীরভূমে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর বোলপুর ও রাজনগরে পৃথক সভা করার কথা ছিল সিপিআইএমের। দুটি সভাতেই প্রধান বক্তা হিসেবে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত উভয় কর্মসূচিই বাতিল করা হয় বলে সিপিএমের দাবি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস ধরে এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে বুথস্তরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক, অর্থ সংগ্রহ এবং প্রচারসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। কর্মসূচি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছনোর পর সভার আগের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা করা যাবে না বলে জানানো হয়। উচ্চ মাধ্যমিকের সিমেস্টার পরীক্ষা চলার কারণেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে বলে সিপিএমের দাবি।
সভা বাতিলের প্রতিবাদে রাজনগর সিপিআইএম এরিয়া কমিটির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের নেতারা। সেখানে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শীতল বাউড়ি দাবি করেন, সভার অনুমতি পাওয়ার জন্য তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, গত ২৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ সভার অনুমতি দিয়েছিল। পরে সভার দিন পরীক্ষা রয়েছে জানিয়ে মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ অভিযোগ করেন, প্রথমে রাজনগরের সভার অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বোলপুরের সভার ক্ষেত্রেও শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। উচ্চ মাধ্যমিকের সিমেস্টার পরীক্ষা চলার কারণ দেখিয়েই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ এবং তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন। সভার অনুমতি বাতিল হওয়ায় সেই সুযোগ থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সিপিএমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, এসআইআর নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা প্রতিবাদ থাকলে তারা কেন সভা করে তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবে না? সভার অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।