মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। সেক্ষেত্রে চলতি বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে পুরসভা ভোট। ট্রাইব্যুনালে মামলার গতির কারণে বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই বিষয়টি শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায় -'প্রয়োজনে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনকে পিছিয়ে দিয়ে, নাম যোগ করার আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। শুধু তাই নয়, সম্ভব হলে যেখানে যেখানে বর্তমানে নির্বাচন আছে, সেখানকার আবেদনের আগে নিষ্পত্তি করার কথা বলা হবে।'
এদিন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে বাংলার এসআইআর পর্বের উল্লেখ করেন। এর আগে দু'বার পিছিয়েছে মামলার শুনানি। এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা আরও একটি নির্বাচনে (উপনির্বাচন) ভোট দিতে পারেননি বলে জানান তাঁরা। আইনজীবীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, ''আমরা চাই তাঁরা (বাদ যাওয়া ভোটররা) যেন পুর নির্বাচনে ভোট দান করতে পারেন।'' ট্রাইব্যুনালকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার জন্য আগামী সপ্তাহেই আবেদন শোনার আবেদন জানান তাঁরা।
আদালত প্রাথমিকভাবে তাঁদের ২৯ অক্টোবরের ডেট দেওয়ার কথা বললে আইনজীবীরা অনুরোধ করেন, -'সেটা হলে ট্রাইবুনালের হাত সময় কম থাকবে আবেদনের নিষ্পত্তি করার।' এরপর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রস্তাব দেন, ''যেহেতু এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালে যা নিষ্পত্তি হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে ৯৩% এর নাম ভোটার তালিকায় ফের যুক্ত হচ্ছে, তাই এই শতাংশের কথা বিবেচনা করে যাঁদের আবেদন ট্রাইবুনালে পেন্ডিং রয়েছে, তাঁদের আগামী পুর নির্বাচনে ভোট দিতে অনুমতি দিক সর্বোচ্চ আদালত।''বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি অবশ্য জানান, ''তাঁর সব দিকই বিবেচনা করবেন।'' আগামী ১৬ অক্টোবর মামলা শুনবে সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
কলকাতা ও হাওড়া মিলিয়ে প্রায় ২.২৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার কারণে বিচারাধীন রয়েছে। অনেক ভোটার এপ্রিল মাসে ট্রাইব্যুনালে আপিল করলেও তাঁদের নাম বিচারাধীন হিসাবে রয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারকের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনামা বা শুনানির ডাক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।আগামী ১৬ অক্টোবর এই মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।