এক টুকরো শান্তিনিকেতন! এ যেন সোনাঝুরির হাট বসেছে বসিরহাটে
বসিরহাট : বসিরহাটের এক বাগানবাড়িতে পা রাখতেই যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে শান্তিনিকেতনের বসন্তের ছবি। রঙিন আবির, গানের সুর, হাতের তৈরি শিল্পসামগ্রী আর মানুষের উচ্ছ্বাস। সব মিলিয়ে বসিরহাটের লেডিস ক্লাবের বসন্ত উৎসব কার্যত এক টুকরো সোনাঝুরির হাট হয়ে উঠেছিল। উৎসব প্রাঙ্গণে ঢুকতেই যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা শহরের কোলাহল ভুলিয়ে মুহূর্তে নিয়ে যাচ্ছিল গ্রামীণ শান্তি আর শিল্পচর্চার আবহে। উৎসব জুড়ে ছিল নানান ধরনের কুটির শিল্পের স্টল। কোথাও হাতে তৈরি চকোলেট, কোথাও মাটি ও পাটের অলঙ্কার, আবার কোথাও বাটিক প্রিন্টের পোশাক। প্রতিটি স্টলেই চোখে পড়েছে সৃজনশীলতার ছাপ। শুধুমাত্র কেনাবেচাই নয়, এই শিল্পসামগ্রীগুলো ঘিরে দর্শনার্থীদের কৌতূহল, আলোচনা ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলাদের হাতে তৈরি এই সামগ্রীগুলির মধ্য দিয়ে আত্মনির্ভরতার এক বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।
শিল্পসামগ্রীর পাশাপাশি উৎসবের প্রাণ হয়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আবির খেলায় মেতেছিলেন অংশগ্রহণকারীরা, চলেছে আবৃত্তি, গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চা। রঙ, সুর আর কবিতার মেলবন্ধনে বসন্ত উৎসবের প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মহিলারা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এই আয়োজনে যোগ দেন, ভিড় জমে ওঠে বিকেল গড়াতেই। এই বসন্ত উৎসবের উদ্যোক্তা বসিরহাট লেডিস ক্লাব। সংগঠনের তরফে অমৃতা পাঠক জানান, গত আট বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের আয়োজন করে আসছেন তারা। তার কথায়, “আমাদের মূল লক্ষ্য মহিলাদের স্বাবলম্বী করা। তাদের তৈরি সামগ্রী যাতে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, সেই জন্যই এই স্টলের ব্যবস্থা। এতে একদিকে যেমন শিল্পীরা উৎসাহ পান, তেমনই তাদের আয় করার সুযোগও তৈরি হয়।” ভবিষ্যতেও এই ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান তথা ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অদিতি মিত্র রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, “সবার পক্ষে শান্তিনিকেতনে যাওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু এখানে এলে অনেকটাই সেই অনুভূতি পাওয়া যায়। রবীন্দ্রসঙ্গীত, শিল্পের আয়োজন আর পুরো পরিবেশটা সোনাঝুরির হাটের কথা মনে করিয়ে দেয়। বসিরহাটের মধ্যে এমন এক আয়োজন সত্যিই অভূতপূর্ব।” সব মিলিয়ে বসিরহাটের এই বসন্ত উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং নারীদের সৃজনশীলতা, আত্মনির্ভরতা ও সমাজের সঙ্গে তাদের সংযোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। রঙিন আবিরে, শিল্পের সৌরভে আর গানের সুরে বসিরহাটের এই বাগানবাড়ি একদিনের জন্য হলেও হয়ে উঠেছিল শান্তিনিকেতনেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।