অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী সিটিতে ভারতের প্রথম উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করল হাইসেন্স
ইপ্যাক ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজিসের মাধ্যমে ১০ একর জায়গা জুড়ে বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র কমিশন করা হয়েছিল, এটি হাইসেন্স-ইপ্যাকের যৌথ উদ্যোগ
ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ – কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালির জিনিসপত্রে আন্তর্জাতিক স্তরের নেতৃস্থানীয় কোম্পানি হাইসেন্স আজ ভারতে তার প্রথম উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করল অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী সিটিতে। এটি ইপ্যাক ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেড (EMTPL)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি। EMTPL হল ইপ্যাক ডিউরেবল লিমিটেড (EDL)-এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সংস্থা। ভারতে হাইসেন্সর বৃদ্ধির যাত্রায় এই ঘটনা এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক এবং ভারত সরকারের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের প্রতি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতাকে চিহ্নিত করে।
শ্রী সিটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মধ্যে অবস্থিত এই নতুন গড়ে তোলা এবং কমিশন করা হাইসেন্স (EMTPL) উৎপাদনকেন্দ্র হল ১০ একরের এক ক্যাম্পাস এবং এর পাশেই EDL-এর ODM উৎপাদন প্ল্যান্ট। ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি লগ্নিতে নির্মিত এই অত্যাধুনিক কেন্দ্র হাইসেন্স-র ভারতে স্থানীয় হয়ে ওঠার কৌশল রূপায়িত করার পথে এক বড়সড় পদক্ষেপ এবং এখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। একবার পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে এই প্ল্যান্ট একান্তভাবে হাইসেন্স ইন্ডিয়ার জন্য ঘরের এয়ার কন্ডিশনার তৈরি করবে। এখানে এদেশে এই ব্র্যান্ডের RAC আউটপুটের ১০০% নির্মিত হবে, যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে হাইসেন্সর স্থানীয় উৎপাদন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে।
পাইলট প্রোডাকশন ইতিমধ্যেই আরম্ভ হয়ে গেছে, শ্রী সিটি উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে ধাপে ধাপে। ফেজ ১ পুরোপুরি ঘরের এয়ার কন্ডিশনার তৈরি করার জন্য নিবেদিত, এবং হাইসেন্সর ফ্ল্যাগশিপ ও আন্তর্জাতিক AC পোর্টফোলিওর জিনিসগুলি উৎপাদন করবে। তার মধ্যে আছে F-সিরিজ, ইকো সিরিজ, ইনটেলি পেরলা সিরিজ এবং আসন্ন ইনটেলি প্রো সিরিজ। ফেজ ১-এর প্রাথমিক ইনস্টলড ক্ষমতা বার্ষিক ০.৭৫ মিলিয়ন RAC ইউনিট।
২০২৭ আর্থিক বর্ষের ২য় কোয়ার্টারে ফেজ ২ শুরু হওয়ার কথা। সেই পর্যায়ে প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং টপ-লোড ও ফ্রন্ট-লোড বিভাগের সমস্ত ওয়াশিং মেশিন তৈরি হবে। ২০২৭ আর্থিক বর্ষের ৩য় কোয়ার্টারে ফেজ ২ শুরু হওয়ার কথা। তাতে LED টেলিভিশনও তৈরি হবে।
এই মুহূর্তে প্রায় ৫০০ কর্মচারীসম্পন্ন এই প্ল্যান্ট আগামী ১২-২৪ মাসে প্রায় ১,৫০০ পেশাদারের কর্মসংস্থান তৈরি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খল, অর্থ বিভাগ, প্রশাসন, যন্ত্রপাতি চালাবার লোক এবং উৎপাদনকাজে দক্ষ কর্মী নেওয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
এই উৎপাদনকেন্দ্র ঘরোয়া বাজার ও রফতানি বাজার, দুটিকেই পণ্য জোগাবে। ফলে দ্রুততর বিতরণ সম্ভব হবে, সরবরাহ শৃঙ্খলের সক্রিয়তা আরও উন্নত হবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। শ্রী সিটি ভারতের অন্যতম অগ্রগণ্য ইন্টিগ্রেটেড উৎপাদন SEZ-এ পরিণত হয়েছে। এখানে ইলেকট্রনিক্স, অটোমোটিভ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের বহু আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া কোম্পানির কেন্দ্র রয়েছে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে বড় আকারের উৎপাদন ও রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদন করা হলে খরচেরও সাশ্রয় হবে এবং ভারতের দ্রুত বেড়ে চলা কনজিউমার ডিউরেবলস বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক দাম পাওয়া যাবে।
এই উদ্বোধন সম্পর্কে পঙ্কজ রানা, সিইও, হাইসেন্স ইন্ডিয়া, বললেন “এই নতুন কেন্দ্র ভারতে হাইসেন্সর বিবর্তনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শ্রী সিটি আমাদের মেক ইন ইন্ডিয়া মিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তাল মেলানোর পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা আরও জোরদার করার সুযোগ দিচ্ছে। এই প্ল্যান্ট আমাদের গুণমান, খরচ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর সুযোগও দিচ্ছে। পাশাপাশি কাজকর্ম আরও বড় করার এবং ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য পণ্যগুলো কাস্টমাইজ করার সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে। ভারতে স্থানীয় শিকড়সম্পন্ন, উৎপাদনভিত্তিক সংগঠন তৈরি করার যে উদ্দেশ্য আমাদের রয়েছে, তা আরও জোরদার হল।”
হাইসেন্স ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে অজয় সিংঘানিয়া, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও অ্যাট ইপ্যাক ডিউরেবল, বললেন “ইপ্যাক ডিউরেবলে আমরা হাইসেন্স ইন্ডিয়ার সঙ্গে ভারতে তাদের প্রথম উৎপাদন প্রচেষ্টায় জুটি বাঁধতে পেরে গর্বিত। এই কেন্দ্র হাইসেন্সর প্রযুক্তি আর ইপ্যাক ডিউরেবলের টেকনিকাল পারদর্শিতার জোরালো নিদর্শন। আন্তর্জাতিক উৎপাদনের মাপকাঠি মেনে এই কেন্দ্র ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা তুলে ধরবে এবং যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, তাদের পছন্দের পার্টনার হিসাবে দেশের অবস্থান জোরদার করবে।”
এই লগ্নির আগে হাইসেন্স ইন্ডিয়া এক আমদানিভিত্তিক ও পার্টনার দ্বারা সমর্থিত উৎপাদন মডেলের মাধ্যমে কাজ করত। শ্রী সিটির কেন্দ্র কোম্পানির সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড স্থানীয় উৎপাদনের দিকে সরে যাওয়ার সূচক। এতে ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের জন্য মজবুত ভিত তৈরি হচ্ছে, যদি বাজারের চাহিদা আর ব্যবসার পারফরম্যান্স ঠিকঠাক থাকে।