তদন্তে সহযোগিতার শর্তে হাইকোর্টে আগাম জামিন পেলেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কোলকাতা : বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনী স্বস্তি পেলেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি যে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তা মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এজলাসে তাঁর এই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। তবে, বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছেন যে, -‘তদন্তের ক্ষেত্রে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রত্যেক ১৫ দিন অন্তর একবার করে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে উপস্থিত হতে হবে তাঁকে’। দ্বিতীয় বিবাহ বিতর্কে গ্রেফতারি রুখতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। অবশেষে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট।
সপ্তাহ দুয়েক আগে হিরণের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিধায়কের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।সেসময় হিরণ কলকাতার বাইরে ছিলেন। কলকাতায় ফিরেই তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেন। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে আগাম জামিন মঞ্জুর হয়েছে হিরণের। তবে কিছু শর্ত দিয়েছেন বিচারপতি। প্রতি ১৫ দিন অন্তর একবার করে তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে হিরণকে। তাঁর মামলার শুনানির দিনক্ষণ ধার্য করা হয়েছিল গত ৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেই তারিখ পিছিয়ে যায়।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। দলের হয়ে প্রচার সারতে হবে তাঁকে, এমন যুক্তি দেখিয়েই অভিনেতা আগাম জামিনের আবেদন করছিলেন। যদিও ইতিমধ্যেই হিরণ বিজেপির হয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন তারকা বিধায়ক। বারাণসীর ঘাটে ঋতিকা গিরিকে বিবাহ করেছেন তিনি। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। চাপে পড়ে ছবিগুলি পরমুহুর্তেই মুছে ফেলেন অভিনেতা।
এরপরেই হিরণের প্রথম স্ত্রী দাবি করেন, হিরণের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত আইনি ডিভোর্স হয়নি তাঁর। তাঁদের ১৯ বছরের মেয়ের থেকে মাত্র ২ বছরের বড় ঋতিকা। অভিযোগ তোলেন, দিনের পর দিন তাঁকে এবং তাঁদের মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন অভিনেতা।সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আনন্দপুর থানায় হিরণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন অনিন্দিতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয় মামলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয় মামলা। তাই গ্রেফতারি রুখতে গত ২৮ জানুয়ারি, হিরণের আইনজীবী দ্রুত শুনানি চেয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাজ্যের উচ্চ আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল বর্তমানে একজন বিধায়ক। তাই হিরণের আগাম জামিনের জন্য দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি। হিরণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা, ৪৯৮এ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন অনিন্দিতা। অবশেষে বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতা হাইকোর্টের থেকে আইনী রক্ষাকবচ পেলেন হিরণ। এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যান কিনা অনিন্দিতা?