বেলডাঙার অশান্তি ঘটনায় এনআইএ তদন্ত বহাল রাখলো সুপ্রিম কোর্ট
মোল্লা জসিমউদ্দিন : বুধবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট । রাজ্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ -‘এনআইএকে সিল বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাইকোর্টে। সেই রিপোর্ট দেখেই আদালতকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে’।মুর্শিদাবাদে বেলডাঙায় ঘটে যাওয়া অশান্তির ঘটনার তদন্তভার বর্তমানে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে। এই তদন্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।
তবে বুধবার মামলার শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, -‘এনআইএ-র তদন্ত প্রক্রিয়ায় তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না’।যদিও বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হবে কি না? সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টের উপরই ন্যস্ত করা হয়েছে।উল্লেখ্য, বেলডাঙার হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, -‘কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের বিরোধিতা করেই রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়।এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, -‘প্রায় ১ মাস আগে এনআইএ তদন্তভার গ্রহণ করেছে এবং ইতিমধ্যেই তারা এফআইআর দায়ের করেছে’। তবে ইউপিএ -র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের প্রশ্নে শীর্ষ আদালত এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এই বিষয়ে প্রাথমিক মূল্যায়নের দায়িত্ব হাইকোর্টের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে মুখবন্ধ খামে হাইকোর্টে তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইউএপিএ প্রয়োগের মতো উপাদান রয়েছে কি না?তা স্পষ্ট করতে হবে।এদিনকার শুনানিতে এনআইএ-র আইনজীবী দাবি করেন, -‘হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ এখনও তদন্ত সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি হস্তান্তর করেনি’।
পাল্টা রাজ্যের তরফে জানানো হয়, -‘ঘটনার পর রাজ্য পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে’। কারও জামিন হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে বলা হয়, -‘বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি সংবেদনশীল এলাকায় এই হিংসা হয়েছে এবং সেখানে আগুন লাগানো ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ থাকায় এনআইএ স্বাধীনভাবে তদন্ত চালাচ্ছে’।