দল বদলে জেইউপিতে যোগ, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরালেন মাওলানাবাগের পীরজাদা খোবায়েব আমিন
বসিরহাট : কংগ্রেস ছেড়ে জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দিয়ে প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন বসিরহাট মাওলানাবাগ দরবার শরীফের পীরজাদা খোবায়েব আমিন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, কংগ্রেসে থাকাকালীন তিনি রাজ্য এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারির দায়িত্ব সামলালেও দলীয় রাজনীতির বাস্তব অবস্থান নিয়ে তিনি ক্রমশই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তার কথায়, “আমি কংগ্রেসে থেকে মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমেছিলাম। কিন্তু রাজ্যের রাজনীতিতে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, কংগ্রেস হাই কমান্ডের তরফ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও রকম বিরূপ মন্তব্য বা কড়া অবস্থান নিতে কার্যত বারণ করা হয়েছে।”
খোবায়েব আমিনের দাবি, এই দ্বিচারিতা ও দোদুল্যমান রাজনৈতিক অবস্থানই তাকে কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, “যে দল বিরোধী রাজনীতির কথা বলবে, সেই দলই যদি মাঠে নেমে লড়াই করতে না চায়, তাহলে সেখানে কাজ করার কোনও অর্থ হয় না। রাজ্যের মানুষ স্পষ্ট অবস্থান চায়, আপসের রাজনীতি নয়।” তার অভিযোগ, রাজ্যে কংগ্রেসের সংগঠনকে শক্তিশালী করার বদলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ কার্যত নীরব থাকার পথ বেছে নিয়েছে, যার ফলে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই মুর্শিদাবাদের মরাদিঘির এক জনসভা থেকে হুমায়ুন কবিরের হাত ধরে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দেন। যোগদানের পরই তাকে জেইউপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে খোবায়েব আমিন বলেন, “আমি কোনও পদ পাওয়ার লোভে দল বদলাইনি। তবে এটা ঠিক যে, নতুন দলে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা রাজ্যের মানুষের কথা বলার, লড়াই করার সুযোগ করে দেবে। আমি চাই মানুষের সমস্যা নিয়ে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামতে।”
তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেসে থাকাকালীন বহুবার রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বারবারই ‘উপর থেকে নির্দেশ’ দেখিয়ে তাকে সংযত থাকতে বলা হয়েছে। তার বক্তব্য, “একটা বিরোধী দল যদি বিরোধিতাই না করে, তাহলে গণতন্ত্রে তার ভূমিকা কী? এই প্রশ্নটাই আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল।” তাই শেষ পর্যন্ত তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন। সাংবাদিক সম্মেলনে খোবায়েব আমিন স্পষ্ট করেন, জনতা উন্নয়ন পার্টিতে থেকে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমস্যা, সংখ্যালঘু সমাজের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন, এবং বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুতে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চান।
তার কথায়, “রাজনীতি যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে সেই রাজনীতি অর্থহীন। আমি লড়াই করতে এসেছি, আপস করতে নয়।” এই দলবদল এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তার প্রকাশ্য ক্ষোভ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বসিরহাট ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে এর প্রভাব কী পড়ে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।