দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে শুধু রুপির বাইরে ভাবা কেন আজ ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য জরুরি: মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার্স
ভারত, 31 জানুয়ারি, ২০২৬: ভারতীয় পরিবারগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষার আশায় নিয়মিত সঞ্চয়ে বিশ্বাস রাখে—ফিক্সড ডিপোজিট, সোনা এবং ঘরোয়া ইকুইটির মতো মাধ্যমের উপর ভরসা করে। কিন্তু মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার্স এক গুরুত্বপূর্ণ অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ঝুঁকির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে—মার্কিন ডলারের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেলে, প্রতি দশকে টাকার মান প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর ফলে সঞ্চয়ের অঙ্ক বাড়লেও, ক্রয়ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কিংবা আমদানি নির্ভর পণ্য ও পরিষেবার মতো বৈশ্বিক খরচ ক্রমেই আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
মার্সেলাসের মতে, বিষয়টি কেবল মুদ্রার ওঠানামা ঘিরে নয়—এটি মূলত পোর্টফোলিও গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সঞ্চয় যদি শুধুমাত্র ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা একটিমাত্র অর্থনীতি ও একটি মুদ্রার ঝুঁকির মধ্যেই আটকে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ভারতীয় ও বৈশ্বিক ইকুইটির সমন্বয়ে গঠিত একটি পোর্টফোলিও শুধুমাত্র দেশীয় পোর্টফোলিওর তুলনায় কম অস্থিরতার সঙ্গে আরও উন্নত ঝুঁকি-সমন্বিত রিটার্ন দিতে সক্ষম হয়েছে। সহজভাবে বললে, বৈশ্বিক বৈচিত্র্য বিনিয়োগকারীদের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি না নিয়েই আরও দক্ষভাবে সম্পদ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে।
এক সময় যা ছিল জটিল ও দুরূহ, আজ তা অনেক বেশি সহজলভ্য। সাম্প্রতিক নীতিগত সংস্কারের ফলে ভারতীয় পরিবারগুলির জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ এখন বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে কর-দক্ষ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে GIFT City-র বিকাশ, লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (LRS)-এর আওতায় নিয়ম সহজ করা, বৈদেশিক বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর হ্রাস, এবং ব্যক্তি ও কর্পোরেট—উভয়ের জন্যই বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাঠামোর স্পষ্ট নিয়মকানুন। এই সমস্ত পরিবর্তনের ফলে আগের বহু খরচ, কর ও পরিচালনাগত বাধা দূর হয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের জন্য ভারতীয়দের কাছে GIFT City আজ সবচেয়ে পছন্দের পথ হয়ে উঠেছে।
মার্সেলাস আরও জানায়, বৈশ্বিক এক্সপোজার যোগ করার উদ্দেশ্য বিদেশি বাজারের পিছনে ছোটা বা স্বল্পমেয়াদি ট্রেন্ড ধরার চেষ্টা নয়। বরং এর মূল লক্ষ্য হল মুদ্রার অবমূল্যায়ন থেকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখা, পোর্টফোলিওকে আরও স্থিতিশীল ও সহনশীল করা এবং বিনিয়োগকে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। এমনকি তুলনামূলকভাবে সামান্য পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগও সময়ের সঙ্গে সম্পদের মূল্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং একটি মাত্র অর্থনীতির উপর নির্ভরতা কমায়।
মার্সেলাস জোর দিয়ে জানিয়েছে যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে রয়েছে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ—জল্পনা নয়। ভারতীয় পরিবারগুলি যত বেশি বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত হচ্ছে, ততই তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওকেও সহজ, যুক্তিসঙ্গত ও সুসংগঠিত ভাবে বিকশিত হতে হবে।