লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ভাতা পাচ্ছেন না সাত হাজার মহিলা, রাজ্যের রিপোর্ট চাইলো হাইকোর্ট
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা : বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে উঠে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে মামলা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না প্রায় সাত হাজার মহিলা। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। এদিন এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে দু’সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, -‘মামলার অজুহাতে আইনানুগভাবে কোনওভাবেই এই প্রকল্পের টাকা বন্ধ রাখা যাবে না’।
আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, -‘গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে তপশিলি জাতিভুক্ত মহিলাদের প্রতি মাসে ১২০০ টাকা এবং অন্যান্য মহিলাদের ১০০০ টাকা করে দেয়। অথচ প্রায় সাত হাজার মহিলা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন’। তিনি আরও জানান, -‘জেলাশাসকের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা দেওয়া হয় এবং জেলার অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলারা নিয়মিত এই টাকা পাচ্ছেন’। শুধুমাত্র বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতেই টাকা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ।এদিকে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, -‘নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হয়।
ঐ গ্রাম পঞ্চায়েত সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। সেই অনুসন্ধান শেষ হলে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হবে’। এ জন্য তিনি আদালতের কাছে কিছু সময় চান।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, -‘আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে’। পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট করে জানায়, -‘কোনও মামলা চলার কারণে আইনানুগ প্রকল্পের টাকা বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ অনুচিত। রাজ্যকে অবিলম্বে এই নির্দেশ মেনে চলতে হবে’।আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।