৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫’% শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে : সুপ্রিম কোর্ট
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা : বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবাংলার সরকারি কর্মীদের বহু প্রতিক্ষিত ডিএ মামলার রায়দান ঘোষণা করলো। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। প্রথম কিস্তির টাকা ৬ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। এদিন রায় ঘোষণা করতে গিয়ে, ১৩টি প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন হয়েছে।২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়ার পরে বাকি বকেয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কমিটি ঠিক করবে কত হারে?কত তারিখে? ডিএ দেওয়া হবে। বাজারে পাইকারি মূল্যের সূচকের ওপরে নির্ধারিত হবে ডিএ। তবে বছরে ২ বার ডিএ দেওয়া সম্ভব নয় আদালতে জানায় রাজ্য। সেটাতে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, -‘বছরে ১বারই ডিএ দেওয়া হবে’। এদিন সকালে সুপ্রিম কোর্টে ১১ নম্বর এজলাসে রায় পড়া শুরু হয়। তখনই বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএ সরকারি কর্মীদের মিটিয়ে দিতেই হবে। কিন্তু ডিএ মেটানোর বিষয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রথম ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার পর বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ নিয়ে কমিটি রিপোর্ট তৈরি করবে। ১৫ মে-র মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দেওয়া হবে। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে।। কোন পদ্ধতিতে দিয়ে দেওয়া হবে তা ঠিক করবে চার সদস্যের এই কমিটি। এই রায়ের দিকে তাকিয়েছিল লক্ষ লক্ষ সরকারিকর্মী। প্রায় এক দশক ধরে ডিএ নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। এবার কত ডিএ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয় আদালত। সরকারিকর্মীরা ডিএ-কে মৌলিক অধিকারের দাবি তুলেছিল। কিন্তু আদালত তাতে মান্যতা দেয়নি। তারা জানিয়েছেন ডিএ মৌলিক অধিকার নয়। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে ৪ সদস্যের একটি কমিটি। তাঁরাই আলোচনা করে ঠিক করবে কীভাবে বকেয়া ডিএ মেটানো হবে।
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক ৪০ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে শেষ হয়েছে ডিএ মামলার শুনানি। আগেই বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু বকেয়া পাননি রাজ্য কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ডিএ মামলার রায় ঘোষণা হলো ।রাজ্য সরকারের অন্যতম যুক্তি ছিল-ডিএ কোনও স্থায়ী অধিকার নয় এবং কর্মস্থলভেদে ডিএ আলাদা হতে পারে। দিল্লি, কলকাতা বা গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার খরচ এক নয়, তাই এক হারে ডিএ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলেই দাবি করে রাজ্য। সেই সঙ্গে পুরনো কিছু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উদাহরণও তুলে ধরা হয়।তবে শীর্ষ আদালত সেই যুক্তি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দেয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, -‘রাজ্য যে রায়গুলির কথা বলছে, সেগুলি কারখানার শ্রমিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট সার্ভিস রুল নেই। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে স্ট্যাটিউটরি সার্ভিস রুল-আরওপিএ (ROPA)-স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। ফলে ওই উদাহরণ এই মামলায় প্রযোজ্য নয়’। শীর্ষ আদালত আরও জানায়, -‘রাজ্যের সব সরকারি কর্মচারী একই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও একই নিয়মের আওতায় কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ডিএ-তে বৈষম্য করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই’। এই বৈষম্য সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার পরিপন্থী বলেও পর্যবেক্ষণ করে আদালত।শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক দুরবস্থার যুক্তিও তোলা হয়। বলা হয়, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিলে রাজ্য দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু আদালতের স্পষ্ট অবস্থান-আর্থিক চাপ থাকলেও আইনি অধিকার খর্ব করা যায় না।সব মিলিয়ে, ডিএ মামলায় এই রায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তির। বকেয়া মেটানোর পথে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ কার্যত রাজ্যের উপর চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।