হাড়োয়ায় এসআইআর শুনানির লাইনে অসুস্থ ৩ মহিলা, পাশে দাঁড়ালেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি
বসিরহাট : হাড়োয়া বিডিও অফিসে এসআইআরের শুনানি ঘিরে চরম ভোগান্তির ছবি সামনে এলো। অভিযোগ, একদিনে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে হেয়ারিংএ ডেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন শালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রশিদা বিবি। তার সঙ্গে আরও দু’জন গর্ভবতী মহিলাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাড়োয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক মোল্লা দ্রুত তাদের হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ, ভিড় আর দীর্ঘ অপেক্ষায় একের পর এক সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শুধু এদিনই নয়, গত কয়েকদিন ধরেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
সাধারণ ভোটারদের বক্তব্য, এসআইআর হিয়ারিং-এর নামে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ডেকে এনে কার্যত হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ সারতে পারছেন না। এই ঘটনার পর এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন হাড়োয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক মোল্লা। তার বক্তব্য, “একদিনে চার হাজারের বেশি মানুষকে ডাকা মানেই বিশৃঙ্খলা আর ভোগান্তি। সাধারণ মানুষের কথা ভাবা হচ্ছে না।
আজ রশিদা বিবি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, আরও দু’জন গর্ভবতী মহিলা অসুস্থ। এটা খুবই উদ্বেগজনক। নির্বাচন কমিশনের উচিৎ পরিকল্পনা করে হিয়ারিং করা, যাতে মানুষকে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট পেতে না হয়।” তবে এসআইআরে আসা নাগরিকদের প্রশ্ন, এমন ভিড় আর অব্যবস্থাপনার দায় কে নেবে? সাধারণ মানুষের দাবি, হেয়ারিং প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফেরানো হোক, পর্যাপ্ত বসার জায়গা, পানীয় জল ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হোক, আর একদিনে অযথা এত মানুষের ডাক কমানো হোক। নইলে প্রশাসনিক কাজের নামে এভাবেই বারবার বিপদে পড়বেন সাধারণ মানুষ।