সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মামলায় বড়সড় প্রশ্ন তুললো কলকাতা হাইকোর্ট
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা : সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মামলায় বড়সড় প্রশ্ন তুললো। হাইকোর্টের ধমকের মুখে রাজ্যের পুলিস। নিয়ম না মেনে পুলিসের অতি সক্রিয়তা কেন?এদিন এই মামলার শুনানি পর্বে এই প্রশ্ন বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর। সাংসদ মহুয়া মৈত্রের এফআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলায় অভিযুক্তকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রক্ষাকবচ কলকাতা হাইকোর্টের। নিয়ম না মেনে পুলিশ কেন এত দ্রুত পদক্ষেপ করল – এই প্রশ্নই তুলেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ।
মামলায় অভিযুক্ত ঋষি কুমার বাগড়িকে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৯ ফেব্রুয়ারি।ঘটনার সূত্রপাত একটি সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্ট কে ঘিরে। একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দাবি করা হয়, সেটি নাকি মহুয়া মৈত্র এবং ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ। ‘লাভ চ্যাট’ আখ্যা দিয়ে পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়। সাংসদের দাবি, -‘চ্যাট সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া’। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানান মহুয়া।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ।ডিজিটাল ফরেন্সিক পরীক্ষায় স্ক্রিনশটটি জাল বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। তদন্তে এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তাঁকে নোটিস পাঠানো হলেও হাজিরা না দেওয়ায় নদিয়ার আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে পুলিশের বিশেষ দল নয়ডায় যায়। কলকাতা হাইকোর্টে অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, -‘ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে থানায় গিয়ে সশরীরে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। এই মামলায় অভিযোগপত্রে কোনও স্বাক্ষর নেই। শুধুমাত্র ই-মেল মারফত অভিযোগ গৃহীত হয়েছে’।
এর পাশাপাশি, অভিযোগ দায়েরের পরপরই অন্য রাজ্যে গিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেওয়া আইনসম্মত কি না? তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।আদালতে রাজ্যের তরফে সময় চাওয়া হলে বিচারপতি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে সরব হন।এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।