বাম আমলে অনৈতিক চাকরি বাতিল করলো কলকাতা হাইকোর্ট
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা : বিগত বাম আমলের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট । আদালত সুত্রে জানা গেছে, তিথি অধিকারীর চাকরি পুনবর্হালের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় । গত ২০১০ সালে অক্টোবর মাসে চুক্তি ভিত্তিতে চাকরি পান তিথি অধিকারী। অভিযোগ বাম আমলে শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্রয়ে শিক্ষা দফতরে চাকরি পেয়েছিলেন তিথি অধিকারী। প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানার শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনায় কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু ২০১৪ বা ২০১৬ নয়, ২০১০, ২০১১ এবং ২০১২ সালেও শিক্ষা দফতরের সচিবালয়ে ‘অনৈতিক’ চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বাম জমানার শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপের সমালোচনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। দফতরের দেওয়া রিপোর্ট উপেক্ষা করে এবং আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেই সময়েও অনৈতিকভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন বিচারপতি। তাই বুদ্ধ জমানার শিক্ষামন্ত্রীর কাজকর্মের তীব্র সমালোচনা বিচারপতির মুখে।
২০১০ সালে অক্টোবর মাসে চুক্তি ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন তিথি অধিকারী। তিনি শিক্ষা দফতরের সচিবালয়ে সহকারী হিসেবে কাজ পেয়েছিলেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত সেই পদের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। অভিযোগ, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্রয়েই তিথি শিক্ষা দফতরের সচিবালয়ে সরকারী হিসেবে চুক্তি ভিত্তিক চাকরি পেয়েছিলেন। সুতরাং ২০১২ সাল পর্যন্ত সরকারই তাঁকে বেতন দিয়েছে।তখন অবশ্য সরকার বদলে তৃণমূল সরকার মসনদে বসে। সেই চাকরিই পুনর্বহালের জন্যে আবেদন করেছিলেন তিথি অধিকারী।
চলতি সপ্তাহে সেই মামলায় চাকরি প্রাপক তিথি অধিকারীর চাকরি পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, -‘এইভাবে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা অনৈতিক ভাবে বিলি করা যায় না’। পাশাপাশি বিচারপতি আরও জানালেন, -‘রাজ্য চাইলে এমন অনৈতিক কাজের তদন্ত শুরু করে সত্য উদঘাটনের পথে হাঁটতে পারে।’