চার দশক পেরিয়ে আবৃত্তি চর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হয়ে রইলো বসিরহাটের ছন্দবাণী
বসিরহাট : চার দশক পেরিয়েও বসিরহাটের আবৃত্তি চর্চার অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে নিজের জায়গা অটুট রাখল ছন্দবাণী। বিখ্যাত আবৃত্তি শিল্পী সাগরময় চক্রবর্তীর হাত ধরেই যে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু, তার ৪০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বসিরহাট রবীন্দ্রভবনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন হয়। আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতের মেলবন্ধনে মঞ্চে তুলে ধরা হয় বাংলার কবিতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা রূপ। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে আধুনিক কবিদের নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সঙ্গে ছিল দলীয় নৃত্য ও গান। শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের ভিড়ে রবীন্দ্রভবন ছিল মুখর।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুরু থেকেই ছন্দবাণীর লক্ষ্য ছিল কবিতাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছে নিয়ে যাওয়া। শব্দের ছন্দ, উচ্চারণের সৌন্দর্য্য আর ভাবের গভীরতাকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা। প্রতিষ্ঠাতা সাগরময় চক্রবর্তী বলেন, “বাঙালির হৃদয় ও মননে কবিতার যে গভীর শিকড়, ছন্দবাণী সেই শিকড়কে জল দিতেই কাজ করে যাচ্ছে। ৪০ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করেছি নতুন প্রজন্মকে আবৃত্তির দিকে টেনে আনতে। কবিতা কেবল বইয়ের পাতায় নয়, মানুষের কণ্ঠে ও অনুভবে বেঁচে থাকুক, এটাই আমাদের স্বপ্ন।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বসিরহাট ছাড়াও আশপাশের এলাকায় আবৃত্তি কর্মশালা ও নিয়মিত মঞ্চানুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ছন্দবাণীর বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পীরাও অংশ নেন। আবৃত্তিতে ধ্রুপদী ও আধুনিক কবিতার পাশাপাশি ছিল সামাজিক ও মানবিক বিষয়কে ছুঁয়ে যাওয়া পাঠ। নাচ ও গানের পরিবেশনা সেই আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। দর্শকসারিতে বসা বহু সংস্কৃতিপ্রেমী জানান, ছন্দবাণীর মতো প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বসিরহাটের সাংস্কৃতিক জীবনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। চার দশকের পথচলা পেরিয়ে ছন্দবাণী যে এখনও একই উদ্যমে কবিতা ও আবৃত্তির চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, এই বর্ষপূর্তির সন্ধ্যা তারই প্রমাণ রেখে গেল।