গ্রামীন অ্যামেচার যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর চাঁদপুর রবীন্দ্র স্মৃতি সংঘ।
শুভদীপ মন্ডল, বাঁকুড়া : টানা ৩৭ বছর ধরে সরস্বতী পুজো উপলক্ষে যাত্রা পালার অভিনয় হচ্ছে বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের চাঁদপুর গ্রামে। যা যাত্রাপালা জগতের ইতিহাসে একটা মাইলস্টোন বলে মনে করছেন এলাকার যাত্রা প্রেমি মানুষজন। যাত্রা শিল্পীর স্বনামধন্য যাত্রা মোদী ব্যক্তিত্ব শক্তিকুমার চ্যাটার্জি বলেন অতীতে এই শিল্পটি কে কেন্দ্র করে বহু মানুষ সংসার চালাতেন ও বাংলার ঐতিহ্য যাত্রা শিল্পকে সমাজের কাছে তুলে ধরতেন।
চাঁদপুর রবীন্দ্র স্মৃতি সংঘের পরিচালনায় সম্প্রতি গ্রামের শিল্পীরা অভিনয় করলেন মঞ্জিল ব্যানার্জি রচিত ‘গোধূলি বেলায় শেষ দেখা’ ও ব্রহ্মময় চ্যাটার্জি রচিত ‘ভগবানের হাতে ভিক্ষার ঝুলি’। নির্দেশনায় গ্রামের শিল্পী গোরাচাঁদ সাহা। এছাড়াও অভিনয় করেছেন সুজিত মহাপাত্র, ধনঞ্জয় ঘোষ ,কৃষ্ণপদ গরাই, সুশান্ত সাহা, তপন হালদার ,লক্ষীকান্ত ঘোষ ,তাপস মহাপাত্র, দীনবন্ধু গরাই ,দীপক সাহা গৌউর সাহা, সৌভিক দত্ত, বাবলু ঘোষ সহ অনেকেই।
এ বিষয়ে ক্লাব এবং সরস্বতী পূজার প্রতিষ্ঠাতা কার্তিক ঘোষ জানালেন, ১১ টাকার বাজেট নিয়ে ৫২ বছর আগে সরস্বতী পূজা শুরু করেছিলাম। সেই পুজোতে গ্রামের ছেলেরা টানা ৩৭ বছর যাত্রাপালা অভিনয় করছে। বর্তমান বাজেট প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ! সেদিনের শিশু আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে এটা আমার জীবদ্দশায় একটা বড় পাওনা ! গোরাচাঁদ সাহা দুঃখ করে বলেন, অতীত দিনের শিল্পীরা বার্ধক্যের ভারে সবাই গৃহবন্দী, আবার অনেকেই পছন্দমত চরিত্র না পেয়ে অভিমানে অভিনয় করেননি।
যাইহোক আমাদের চাঁদপুর গ্রামে সমস্ত মান অভিমান ভুলে বর্তমান যুবসমাজের মধ্যে এখনো যে এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা আপ্রাণ চেষ্টা চলেছে। আমি এদের অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পুরানো দিনের অভিনেতাদের মধ্যে থেকেএকমাত্র গোউর সাহা, এবছর অভিনয় করলেন। যাত্রা দেখতে মানুষের চেয়ে এখনো ধৈর্য এবং ইচ্ছা রয়েছে তা দুই দিনের যাত্রা পালায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে। শীতকে উপেক্ষা করে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই যাত্রাপালার শেষ দৃশ্য পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন।