ক্যাম্পাস বার্ড কাউন্টে সক্রিয় শ্রেণিকক্ষে পরিণত আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা : বিশ্বজুড়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শ্রেণিকক্ষের গণ্ডির বাইরে শিক্ষার নতুন অর্থ খুঁজছে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় নিজের ক্যাম্পাসকেই এক জীবন্ত পরিবেশ পাঠ্যে রূপান্তর করে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করল। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ‘ক্যাম্পাস বার্ড কাউন্ট ২০২৬’ ছিল বিশ্বব্যাপী পালিত ‘গ্রেট ব্যাকইয়ার্ড বার্ড কাউন্ট (জিবিবিসি)’-এর অংশ।য়১৩ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি চারদিনব্যাপী এই নাগরিক-বিজ্ঞান উদ্যোগ পালিত হয়।
১৯৯৮ সালে কর্নেল ল্যাব অব অর্নিথোলজি ও ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটি যৌথভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করে।পরে ‘বার্ডস কানাডা’ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়। জিবিবিসি বিশ্বের মানুষকে পাখি গণনা, নথিভুক্ত ও উদ্যাপনের আহ্বান জানায়। সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অংশগ্রহণমূলক জীববৈচিত্র্য তথ্যভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে, যা পাখির সংখ্যা, পরিযান, আবাসস্থলের মান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকো ক্লাব ‘নেচার নার্চারার্স’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের কর্মসূচি সমন্বয়ক ড. ইন্দ্রাণী ঘোষের আহ্বানে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় গাইডেড বার্ড ওয়াক। প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ক্যাম্পাস পরিভ্রমণে ২৬ জন ছাত্রছাত্রী ও ৬ জন শিক্ষক অংশ নেন।পর্যবেক্ষিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ই-বার্ড ডট অর্গের আন্তর্জাতিক ডাটাবেসে আপলোড করা হয়, ফলে স্থানীয় তথ্য সরাসরি বৈশ্বিক সংরক্ষণ বিজ্ঞানে অবদান রাখে।
এদিন মোট ২৮ প্রজাতির পাখি ও ৯৪টি পৃথক উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়। উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে ছিল হলুদ-পা সবুজ পায়রা, কালোপিঠ কাঠঠোকরা, সাদা-গলা মাছরাঙা, বেগুনি ও বেগুনি-পিঠ সূর্যপাখি, নীল-গলা বসন্তবৌরি, রুফাস ট্রিপাই ও সাধারণ হক কোকিল। কীটভোজী, ফলভোজী, মাংসভোজী ও সর্বভুক—বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের পাখি এবং দেশীয় গাছপালার উপস্থিতি ক্যাম্পাসের সুসংগঠিত পরিবেশগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
পাখি পরিবেশের সংবেদনশীল জীব-সূচক হিসেবে আবাসস্থলের মান, দূষণের মাত্রা ও পরিবেশগত ভারসাম্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। তাদের নথিভুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন,সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মতো বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হল—যা স্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৪, ১৩ ও ১৫-র চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
আয়োজকরা আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) সমিত রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রকৃতিপ্রেমী এই শিক্ষাবিদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন পরিকল্পিতভাবে এক সুস্থ বাস্তুতন্ত্রে পরিণত হয়, যেখানে জীববৈচিত্র্যের লালন-পালনের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হবে এক সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ।
এই আয়োজন স্মরণ করিয়ে দেয় কিছু শিক্ষা খোলা আকাশের নিচেই সবচেয়ে গভীরভাবে অর্জিত হয়।