এসআইআর পর্ব বানচাল করতেই কি ভুয়ো বোমাতঙ্ক আদালত গুলিতে?
মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা : গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের নেতৃত্বে নিম্ন আদালতের বিচারকেরা ইতিমধ্যেই এসআইআর নিয়ে বিশেষ সংশোধন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে একটা – দুটো আদালত নয়,দক্ষিণবঙ্গের সিংহভাগ এমনকি মহানগর কলকাতার ব্যস্ততম আদালত গুলিতে মঙ্গলবার দিনভর চললো ভুয়ো বোমাতঙ্ক।এতে পুলিশ প্রশাসনের চিরুনি তল্লাশির পাশাপাশি সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মামলা থমকে গেল।এদিন সকালে হঠাৎই রাজ্যের বিভিন্ন নিম্ন আদালতে বোমার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে বিচারকদের একটি ই-মেল পাঠানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে আদালত চত্বরে তৈরি হয় চাপা চাঞ্চল্য। তাড়াতাড়ি করে পুরো ভবন ফাঁকা করে দেওয়া হয়, শুরু হয়ে যায় তল্লাশি।এদিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ পাঠানো হয় সেই ইমেল। সেই ইমেলের বার্তায় দাবি করা হয় যে, আদালত চত্বরে বোমা রাখা হয়েছে এবং দুপুর ১টার মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটবে। সেই সময় আদালতে একটি জামিনের শুনানি চলছিল।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ বিষয়টি জানানোর পরেই গোটা এজলাসে হুলস্থূল পড়ে যায়। তাড়াতাড়ি পুলিশ এবং বোমা স্কোয়াড পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে দেয়।এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই একই ধরনের মেল পৌঁছয় কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট, দুর্গাপুর আদালত এবং নগর ও দায়রা আদালতেও। আইনজীবী এবং আদালতকর্মীরা কোর্টরুম ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে চলে আসেন। সমস্ত জায়গায় পুলিশকুকুর এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো শুরু হয়। তবে কোথাও কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।সেই একই হুমকি হুগলির চুঁচুড়া জেলা আদালতেও পৌঁছয়। জেলা জজের কাছে পাঠানো সেই মেলে আরডিএক্স বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করা ছিল। সাথে সাথে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ শাখা সক্রিয় হয়ে যায়।
আদালতের ভিতরে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখা হয়।প্রসঙ্গেত,দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর অনেক বিচারক বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত। এই হুমকির সাথে তার কোনও যোগ আছে কি না? সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে ।প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান যে, আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যেই এই ভুয়ো মেল পাঠানো হয়েছে। তবু ঝুঁকি না নিয়ে সবজায়গায় কড়া তল্লাশি চালানো হয়েছে। কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তাও জানার চেষ্টা চলছে।জানা যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ সহ রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল পুরো ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।